তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার মূল লক্ষ্য লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের অবসান।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে মার্কো রুবিও ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতসহ সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দুই পক্ষ ভবিষ্যতে সরাসরি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যদিও সেই বৈঠকের সময় ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি।
ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহসহ সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করতে চায়। অন্যদিকে লেবানন যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা হয়েছিল ১৯৯৩ সালে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংঘাত ও হামলায় লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের সামরিক অভিযান হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আলোচনার পর উভয় পক্ষ হিজবুল্লাহর প্রভাব কমাতে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং ফল পেতে সময় লাগবে, তবে উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনা দেশটির জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে হিজবুল্লাহর একাংশ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া কোনো সমঝোতা তারা মানতে বাধ্য নয়।
সাতকাহন ডেস্ক