পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভেসে এসেছে বিশাল আকৃতির একটি মৃত তিমি। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে পরিবেশকর্মীরা গভীর সমুদ্রে গিয়ে তিমিটির অবস্থান নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সাগরে তিমিটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে বেলিন (Baleen) প্রজাতির তিমি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিমিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ ফুট এবং প্রস্থ ২০ ফুট।
সৈকতে কর্মরত ওয়াটার বাইক চালকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু।
তিনি বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা স্পিডবোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তিমিটি কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে ভাসছিল। আমাদের ধারণা, এটি ৫ থেকে ৬ দিন আগে মারা গেছে। সাগরের স্রোতের কারণে মরদেহটি তীরে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।”
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে তিমিটি কয়েক দিন আগে মারা গেছে। তবে শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তার মতে, জাহাজের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়া, রোগ, সামুদ্রিক দূষণ, খাদ্য সংকট, বার্ধক্য কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণে তিমিটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে নেক্রোপসি (ময়নাতদন্ত) এবং বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।
এদিকে পরিবেশকর্মীরা তিমিটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান এবং এর কঙ্কাল সংরক্ষণের জন্য দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।