এই যুদ্ধের শেষ কোথায়। কোথায় যেয়ে থামবে। সামরিক শক্তি বিবেচনায় আমেরিকার জিতবে। কিন্তু যে অর্থে বিজয় বোঝায় আমেরিকা কি তা অর্জন করবে ? বোধহয় না। সারাবিশ্বে আর-ও বহুবছর আমেরিকা পর রাজ্য গ্রাসী হিসেবে পরিচিত থাকবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে দেখা দেবে মন্দা।বা অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। যার প্রথম শিকার হবে তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ মানুষ। আর ইরান পরিণত হবে ধ্বংসস্তূপে। আবারও পেছনের পথে হাঁটতে শুরু হবে।
আর মধ্যপ্রাচ্যের যে সকল দেশ ইরানের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিয়েছে, তারা-ও শঙ্কিত। কেননা ইরানের প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়লে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ভেঙে পড়তে পারে তাঁদের রাজতন্ত্র। এই দেশগুলো হয়তো ইরানের দূর্বল নেতৃত্ব দেখতে আগ্রহী। কিন্তু এদের জন্য প্রধান দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে, অনিশ্চয়তা, বিশৃঙ্খলা এবং আরও উগ্র উপাদান ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা। তাই তাঁরা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী নিয়ে দেশগুলোর চিন্তায় নতুন মোড়।
এই জন্য, জানুয়ারির পর থেকে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, পাশাপাশি তুরস্ক ও মিসর, ওয়াশিংটন এবং তেহরানকে যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তীব্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায়। তবে এটি তেহরানের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে এই উদ্যোগ নেয়নি। তারা বুঝতে পারছে যে, ইরানের প্রতিশোধের সরাসরি শিকার তারা হবে এই দেশগুলো। এবং ইরানের প্রজাতন্ত্র ভেঙে গেলে পরবর্তী পরিস্থিতি কি হবে তা নিয়ে আশঙ্কায় আছে তারা।
এছাড়া অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ইসরায়েল এই অঞ্চলে ইসরায়েল এক শক্তি হিসেবে প্রকাশ পাবে। ইরানের পতন হলে ইসরায়েল হয়ে উঠবে অপ্রতিরোধ্য। তাই এই মূহুর্তে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, মার্কিন সম্প্রসারণ এবং আগ্রাসী ইসরায়েল। পাশাপাশি ভেঙে পড়া ইরানে, ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দেখা দিবে বিশৃঙ্খলা।
ইরানে প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়লে দেখা দেবে শরণার্থী সংকট। ইরানের বন্দার আব্বাস বন্দর দুবাই থেকে মাত্র কিছুক্ষণের নৌপথ। যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস করে দেবে। হাজার হাজার মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারি জমাবে। যা নতুন সঙ্কটের সৃষ্টি হবে।
এ সম্পর্কিত
You might also like