ইরান–এর বিভিন্ন শহরে গত প্রায় তিন মাস ধরে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্র-পরিচালিত ‘নাইট গ্যাদারিং’ বা রাতের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। CNN–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এসব কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান সরকার।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের কথা বিবেচনায় রেখে সাধারণ মানুষকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছে সরকার।
রাজধানী তেহরান–এর ভানাক স্কয়ার এলাকায় এক নারীকে একে-৪৭ রাইফেল চালানোর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে। সেখানে এক মুখোশধারী ব্যক্তি তাকে অস্ত্র খোলা ও জোড়া লাগানোর কৌশল শেখাচ্ছিলেন। একই এলাকায় একটি ছোট শিশুকেও কালাশনিকভ রাইফেল হাতে দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও অস্ত্র ব্যবহারের প্রচার বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় Islamic Revolutionary Guard Corps–এর সদস্যের কাছ থেকে লাইভ সম্প্রচারে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায় উপস্থাপক হোসেইন হোসেইনি–কে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় চ্যানেল-৩–এর উপস্থাপিকা মোবিনা নাসিরি সম্প্রচারের সময় রাইফেল হাতে দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
এদিকে তেহরানে রাষ্ট্র-সমর্থিত এক বিশাল সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী এই কর্মসূচিতে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের। তাজরিশ স্কয়ার ও আলবোর্জ পর্বতমালার আশপাশের এলাকায় ইরানের পতাকা হাতে জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের কথাও বলেছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া এক বৃদ্ধ ব্যক্তি হাতে লেখা প্ল্যাকার্ডে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মূলত শান্তিপূর্ণ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য, বোমা তৈরির জন্য নয়।
তবে ইরানের সব মানুষ যুদ্ধের পক্ষে নন। তেহরানের বিভিন্ন পার্ক ও জনসমাগমস্থলে অনেককে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ বার্তা দিতে দেখা গেছে। এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপিকা ও তার স্বামী বলেন, তারা একটি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবন চান, যেখানে তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে।
সব মিলিয়ে ইরানে বর্তমানে একদিকে যুদ্ধ প্রস্তুতি ও কঠোর রাজনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের শান্তির আকাঙ্ক্ষা—এই দুই ভিন্ন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সাতকাহন ডেস্ক