Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

আজ ২৫ মার্চ কালো রাত

সেদিন-ও বসন্তের দখিনা বাতাস। এই নগরে সেদিন-ও কোকিল ডেকেছিল দিনভর। এই নগরে ছিল চাপা উৎকন্ঠা আর উত্তেজনা। তারপরও কারো ভাবনায় আসেনি রাত হলে শহরে নেমে আসবে আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে আসবে পিশাচের দল। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে ২৫ মার্চ রাতে এমনটাই ঘটে। পাকিস্তানের আর্মাড বাহিনী আর ট্যাঙ্কের বহর নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে নেমে ছিল তারা। হাজার, হাজার ঘুম ভাঙ্গার আগে মৃত্যুর পথে চলে যায়। আজকে রাতে হত্যা করা হয় এই শহরের নিরপরাধী মানুষেরে !

রাতটি ছিল কৃষ্ণপক্ষের ঘন অন্ধকার। ঢাকা সেনানিবাস থেকে গোপনে শ্বাপদের মতো বেরিয়ে আসে ট্যাংক আর সাঁজোয়া গাড়ির সারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল আর ইকবাল হলে (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) সেনারা মেতে ওঠে নির্বিচার গণহত্যায়। গোলা ফেলা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে। পাশের বস্তিবাসীরাও রক্ষা পায়নি গণহত্যা থেকে। আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড চলে রোকেয়া হলেও। যত্রতত্র ধরিয়ে দেওয়া হয় আগুন। হামলা চালানো হয় পুরান ঢাকার হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকাতেও। একই সময়ে পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিলখানায় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের সদর দপ্তরে।

বাঙালি পুলিশ ও ইপিআর (পরে বিডিআর, বর্তমানে বিজিবি) সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে রুখে দাড়ায়। এখান থেকেই প্রতিরোধ শুরু। এবং দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য মুক্ত হয় আমাদের এই স্বদেশ।

এ সম্পর্কিত

একাত্তরের মার্চ

সম্পাদক
সাতকাহন
You might also like