ছবি: সংগৃহীত
সরকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ছয় শ্রেণির মানুষকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। আর এই কর্মসূচির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের মোট দুই কোটি পরিবারকে নগদ সহায়তার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সমাজকল্যান মন্ত্রণালয় প্রণীত এই নীতিমালাটি শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।
আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের চার মাসের পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর থেকেই এসব এলাকায় কমপক্ষে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট যোগ্য পরিবারগুলো তাদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি স্থানান্তরের মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পাবে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটির এক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং পাইলট পর্ব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে সে পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে না। বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিকও এ সুবিধা পাচ্ছেন না। আরও যারা কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না, তারা হলেন-পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক বা বড় ব্যবসা থাকলেও এ কার্ড পাওয়ার অযোগ্য হবেন।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এই কর্মসূচির জন্য মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে যা বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এটি হয়ে উঠবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যয়ের প্রকল্প। এই প্রকল্পে বার্ষিক বরাদ্দের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি তে পারে বলে জানা গেছে।
সাতকাহন ডেস্ক