Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

নির্বাচন-পরবর্তী কোনো অবস্থাতেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাবে না বিএনপি

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আলমগীর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী কোনো অবস্থাতেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাবে না বিএনপি।

ভাররত থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক WEEK-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির সংস্কার কর্মসূচি, ভারতের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের ভাবনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের ওপর ভরসা করছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক।

ভাররত থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক WEEK-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির সংস্কার কর্মসূচি, ভারতের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের ভাবনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আলমগীর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী কোনো অবস্থাতেই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাবে না বিএনপি।
ভাররত থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক WEEK-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির সংস্কার কর্মসূচি, ভারতের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের ভাবনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের ওপর ভরসা করছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক।
week-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকারটি অনুবাদের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো।

বিস্তারিত :

নির্বাচন আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
নির্বাচন-পূর্ব বা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়ে জল্পনা চলছে।

গত ১৫ বছরে আমরা যখন একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, তখন বাম ও ডান—উভয় ধারার বেশ কয়েকটি মতাদর্শগতভাবে কাছাকাছি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে তুলেছিলাম। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৪টি রাজনৈতিক দল সেই সংগ্রামে বিএনপির পাশে ছিল। আমরা যখন আমাদের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করি, তখন স্পষ্টভাবে বলেছিলাম—সরকার গঠন করতে পারলে এটি হবে একটি ঐকমত্যভিত্তিক সরকার, যেখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে থাকা দলগুলো অংশ নেবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই আন্দোলনের অংশ ছিল না, তারা এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

এর মধ্যে কি জামায়াতে ইসলামীর কথাও বলা হচ্ছে?

উত্তর: না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা নেই এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারে জামায়াতের অংশগ্রহণ আমি দেখছি না।

শিক্ষার্থীদের গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপি কেন জোট গঠন করেনি?

আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এনসিপি বিপুল সংখ্যক আসনের দাবি জানায়, যা বাস্তবসম্মত ছিল না। আমরা নিশ্চিত যে আমাদের প্রার্থীরা ওই আসনগুলোতে জয়ী হতে পারবেন, কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন প্রতীক নিয়ে এনসিপির প্রার্থীরা জিততে পারবেন কি না—সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক।

এবারের নির্বাচনটি ভিন্ন, কারণ আওয়ামী লীগ এতে অংশ নিচ্ছে না।

আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে যা জানি, তা হলো—আওয়ামী লীগের সঙ্গে আগে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা নিজেই তাঁর দলকে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আমার মনে হয় না, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে। আদর্শভাবে তাদের নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে ফিরে আসা উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এখন সেই সুযোগও নেই, কারণ শেখ হাসিনা দলের ভেতরে বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ দেন না।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

এতে বিপুল উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ফিরে আসা বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সত্যিকারের উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। তাঁর প্রথম ভাষণে তিনি মানব উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের কল্যাণ ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেন। প্রস্তাবিত ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উপকরণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিপণ্যের ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি ১৮ মাসের মধ্যে অন্তত এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছেন এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতিও তুলে ধরেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তাঁর আরেকটি মৌলিক অঙ্গীকার। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরোপুরি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ এবং প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন। শিক্ষা সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রয়োজনভিত্তিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা এবং মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ওপর। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারও অগ্রাধিকার পাবে—একটি কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার রয়েছে।

 

You might also like