You might also like
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। তবে ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী কি এমন অবস্থায় পদে থাকতে পারেন—তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের ‘ইচ্ছা সাপেক্ষে’ পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তবে এই ‘ইচ্ছা’ আসলে নির্ভর করে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থার ওপর। নির্বাচনের পর রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মুখ্যমন্ত্রীর যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন না থাকে, তাহলে তিনি কার্যত পদে থাকতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাল তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে অপসারণ করতে পারেন এবং নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
আইন অনুযায়ী, বিধানসভার মেয়াদ পাঁচ বছর (অনুচ্ছেদ ১৭২)। মেয়াদ শেষ হলে স্বাভাবিকভাবেই সেই সরকারের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সাধারণত ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক প্রথা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পদত্যাগ না করা মূলত রাজনৈতিক অবস্থান, আইনি বাধা নয়। কারণ সংবিধান অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।
ভারতের ইতিহাসে নির্বাচনে হেরে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার ঘটনা প্রায় নজিরবিহীন। তবে বিভিন্ন সময় আইনি জটিলতা বা মামলার কারণে কিছু মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়তে দেরি করেছেন। যেমন—দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা তামিলনাড়ুর জে. জয়ললিতা। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাদের পদত্যাগ বা অপসারণ নিশ্চিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে, সংবিধান অনুযায়ী কোনো মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেও, যদি তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান, তাহলে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপে তার পদে থাকা সম্ভব নয়।
Recover your password.
A password will be e-mailed to you.