Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

বিশ্বকাপ – ২০২৬

একযুগ আগে মেসির সেই গোল আজও চোখে লেগে আছে

একযুগ আগে মেসির সেই গোল আজও চোখে লেগে আছে

 

ফুটবল ইতিহাসে কিছু গোল আছে, যেগুলো শুধু গোল নয়—একেকটি শিল্পকর্ম। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে লিওনেল মেসির শেষ মুহূর্তের গোল ছিল তেমনই এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।

ব্রাজিলের বেলো হরাইজন্তের ঐতিহাসিক মিনেইরো স্টেডিয়ামে তখন ম্যাচের যোগ করা সময় চলছে। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত রক্ষণে আর্জেন্টিনাকে আটকে রেখেছিল ইরান। মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের বড় এক অঘটনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব।

কিন্তু মাঠে যখন মেসি থাকেন, তখন অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

৯০+১ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান দিক থেকে ভেতরে কাট করেন মেসি। সামনে ছিলেন ইরানের রেজা গুচানেজাদ। সামান্য ফাঁক তৈরি করেই বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা হাঘিঘি ডাইভ দিলেও বল ঠেকানোর কোনো সুযোগ ছিল না।

মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় ইরান, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা।

এই গোল শুধু ম্যাচ জেতায়নি, নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বও।

ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়া ইরানের প্রশংসা করে বলেন,

“ইরান অসাধারণ খেলেছে। তারা আমাদের জন্য জীবন কঠিন করে তুলেছিল।”

তবে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন একজনই—লিওনেল মেসি।

সাবেয়ার ভাষায়,

“তাদের একটি জিনিস ছিল না, আর সেটা হলো মেসি। সে একজন জিনিয়াস। ওই শট দুইজন গোলরক্ষকও ঠেকাতে পারত না।”

পুরো ম্যাচে মেসিকে থামাতে দ্বৈত পাহারায় রেখেছিল ইরান। তবুও শেষ মুহূর্তে সামান্য সুযোগই যথেষ্ট ছিল আর্জেন্টাইন অধিনায়কের জন্য।

মিনেইরোর সেই রাত আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন। কারণ, সেদিন আবারও বিশ্ব দেখেছিল—লিওনেল মেসি কেন ফুটবলের এক অন্য গ্রহের নাম।

You might also like