কয়লার মূল্য নির্ধারণ ও বিদ্যুতের দাম নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসায় পৌঁছাতে না পারায় ভারতীয় কোম্পানি আদানি পাওয়ার লিমিটেড সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বাংলাদেশও বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একটি প্যানেল গঠন করা হয়েছে। আইনি মোকাবেলার প্রস্ততি হিসেবে ইতিমধ্যে জ্বালানি বিভাগ এবং বিপিডিবি যৌথভাবে কারিগরি ও আইনি দিক নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ নিয়েোগ দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিপিডিব ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুত কেনা-বেচার চুক্তিটি হয়েছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে। সে অনুযায়ী আদানি ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে ১৬০০ মেগাওয়াট উতপাদন ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মান করে। ওই কেন্দ্রের সম্পূর্ণ বিদ্যুতই বাংলাদেশের কাছে বিক্রির জন্য। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুত নিতে শুরু করে।
তবে শুরু থেকেই ওই কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার দাম নির্ধারণ এবং সরবরাহকৃত বিদ্যুতের দাম নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনা ছিল। অভিযোগ আছে যে আদানি ওই কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লার দাম বেশি ধরছে। ফলে বিদ্যুতের দামও বেশি পড়ছে। এই বাবদ প্রতি বছর আদানি বাংলাদেশের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি বিল নিয়ে নিচ্ছে।
চুক্তি সম্পাদনের সময় ইন্দোনেশিয়ার কয়লার মূল্যকে আদানির ব্যবহৃত কয়লার মূল্যসূচক হিসেবে ধরা হয়েছিল। এক পর্যায়ে ইন্দোনেশিয়ার কয়লার মূল্যে পরিবর্তন হলেও আদানি কোনো পরিবর্তন করেনি। ফলে এক পর্যায়ে আদানি তাঁদের হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুতের বিল করলেও বিপিডিবি আলাদা হিসাব করে বিল পরিশোধ করছিল। তাতে আদানির হিসাবে বিপুল পরিমান বকেয়া পড়ে যায়। অবশ্য বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী যে বিল হচ্ছিল সেখান থেকেও বিল বকেয়া পড়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদানিসহ অনেকগুলো বিদ্যুতকেন্দ্রের চুক্তিপত্র খতিয়ে দেখার জন্য একটি জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনায়ও চুক্তি সম্পাদনে অস্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির প্রমান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। তবে তারপরও সরকার কোনো চুক্তিই বাতিল করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
ইতিমধ্যে আদানির হিসাবে বকেয়ার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় এবং বিপিডির হিসাবের সঙ্গে তাঁদের হিসাবের পার্থক্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা না থাকায় আদানি আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে গেল।