বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই যুদ্ধবিরতি সময় বাড়িয়েছে, ট্রাম্প। ইরানকে একটি “সমন্বিত প্রস্তাব” তৈরির জন্য আরও সময় দেওয়া হয়েছে। এটা আর কিছুই না এটা হচ্ছে যুদ্ধের নতুন কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতায় ভরা ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এরই মধ্যে দিন শেষে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কথা ছিল, ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা হবে। শেষ পর্যায়ে এসে ভ্যান্স তাঁর সফর স্থগিত করেন।
এদিকে একটা দ্বিধাদ্বন্দে ছিল, আলোচনায় অংশ নেবে কি নেবে না। ভ্যান্সের সফর স্থগিত করায় ইরান সংশয়ে পড়ে যায়। মোট কথা দু’পক্ষই আলোচনার ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে আগ্রহী। কারো মধ্যেই ছাড় দেয়ার পরিকল্পনা। ফলে আলোচনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাত প্রায় দুই মাসে গড়ানোর মুখে, এর মধ্যেই দ্বিতীয়বারের মতো সামরিক উত্তেজনা না বাড়িয়ে সময় নেওয়ার পথ বেছে নিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একদিকে তিনি সামরিক চাপ বজায় রাখছেন, অন্যদিকে আলোচনার পথও খোলা রাখছেন। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেমস জেফরি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার নির্দিষ্ট কোনো সূত্র নেই—প্রায়ই নেতারা একদিকে কঠোর অবস্থান নেন, অন্যদিকে সমঝোতার প্রস্তাবও রাখেন।
তবে এই সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির নতুন সময়সীমা নির্দিষ্ট করেননি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিতও দেননি, যেটিকে ইরান ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র সমতুল্য বলে মনে করছে।
অন্যদিকে ইরানও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি—যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলেও দ্রুত কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। সময় কেনা গেলেও, সংকটের মূল প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সম্পাদক
সাতকাহন