যেই না আমি ছুরি-চামচ টেবিলে রাখছি ওমনি একটা ভারি শব্দ শুনতে পাই। আওয়াজটি আসে বলরুমের প্রধান দরজা থেকে। প্রথমে খেয়াল করতে পারিনি কিসের শব্দ। আবার যখন আওয়াজ ভেসে সে সময় নিশ্চিত হই এটা কোন আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের আওয়াজ। দৃষ্টিহীন হওয়ায় শব্দের দিকেই বেশি মনযোগ দিই। একই সময় কাঁচ ভেঙে পড়ার শব্দ-ও শোনা যায়। গতকাল শনিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি হিলটন হাউজে সাংবাদিকদের সাথে ডিনার পার্টিতে ট্রাম্পের উপর গুলি বর্ষনের বর্ণনা। বর্ণনাটি করেছেন, বিবিসি’র দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান প্রতিবেদক গ্যারি ও’ডোনাগহ্।গ্যারি একজন দৃষ্টিহীন সাংবাদিক।
গ্যারি ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, গুলির শব্দ শোনা পরই আমি টেবিলক্লথের নিচে, হাঁটু গেড়ে বসে পড়ি। এটা আরেক শনিবারের রাত। আরেক প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান। এবং আবারও গুলিবর্ষণের মাঝখানে আমি ! ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাটলার পেনসিলভেনিয়াতে-ও উপস্থিত ছিলাম। সেদিন-ও প্রেসিডেন্ট প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন! এর পরপরই ডিনার হলে দৌড়াদৌড়িত শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এবারটা ছিল একটু ভিন্ন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমরা সবাই টেবিলের নিচে আশ্রয় নেই।
গ্যারি উল্লেখ করেন এক সকর্মীর কাছ থেকে শুনতে পাই, গুলির আওয়াজের সাথে সাথে, করিডোর থেকে ডজনখানেক মানুষ দৌড়ে বলরুমে ঢুকে যায়। প্রায় দশ মিনিট সবাই টেবিলের নিচে ছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম, অস্ত্রধারী কখন অতিথিদের দিকে গুলি চালাতে শুরু করবে ! আমাদের এক সহকর্মী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থার লোকেরা মঞ্চের পেছনে আশ্রয় নেয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দ্রুত সড়িয়ে নেয়। সাথে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-কেও দ্রুত সরিয়ে নেয়।
অন্য এজেন্টরা হেলমেট আর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে, বন্দুক তাক করে ভিড়ের দিকে নজর রাখছিল—আর কোনো হুমকি আছে কিনা দেখার জন্য।
গ্যারি উল্লেখ করেন তাঁর মাথায় একটা বিষয় ঘুরপাক খাচ্ছিল, কিভাবে একজন বন্দুকধারী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে প্রেসিডেন্টের এত কাছে পৌঁছে গেল ! হিলটনের চারপাশের সব রাস্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগে থেকেই বন্ধ ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু ভেন্যুর ভেতরের নিরাপত্তা ততটা কড়া মনে হয়নি। বাইরের দরজায় থাকা প্রহরী ব্যক্তি স্বল্প দুর থেকে কার্ডটি দেখে ঢুকতে দেয়। আমরা লিফটে করে বলরুমে নামার পর একজন এজেন্ট স্ক্যান করে। কিন্তু আমার জ্যাকেটের ভেতরের জিনিসে অ্যালার্ম বাজলেও তাতে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। এমনকি ভেতর থেকে কিছু বের করে দেখাতেও বলেনি।সংক্ষেপে, নিরাপত্তা ছিল খুবই সাধারণ।
গ্যারি জানায়,গুলির ঘটনার পর তাঁদের বলরুমেই আটকে রাখা হয়। মরিয়া হয়ে ফোন সিগন্যাল পাওয়ার চেষ্টা করছিল সবাই। খবর পাঠাতে এবং কী ঘটেছে তা বাইরের মানুষকে জানতে। সেই সময় চোখে সেই পরিচিত ঝাঁঝালো অনুভূতি জেগে ওঠে। মনে হতে থাকে, কী হতে পারত। আর এই দেশে কতবার এমন ঘটনার মধ্যে পড়তে হবে !
বিবিসি থেকে ভাবানুবাদ