ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেড় হওয়ার পথ খুজছিল। অবশেষে পথ খুজে পেয়েছে। কিন্তু এর জন্য উচ্চ মূল্য দিতে হয়েছে। এদিকে ইরান যত কথাই বলুক না কেন এই চুক্তির ফলে সেখানকার জনগণ ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন থেকে পায়। ইরানের জনগণকে প্রতিমুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হতো কখন আকাশ থেকে টন,টন মরণঘাতী বোমা নেমে আসবে। অবশেষে যুদ্ধ থেমেছে।
শেষমেশ দু-পক্ষই ঠাণ্ডা মাথায় যুদ্ধ স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে। এবং বিশ্ববাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “খুব অগ্রগতি করেছে” এবং একটি “নিশ্চিত” শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। তিনি দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছেন যাতে আলোচনাগুলো এগোতে পারে।
যদিও এটি ঠিক শেষ মুহূর্তের মতো নয়, তবে ট্রাম্পের ৮:০০ pm EDT (বুধবার ০০:০০ GMT) সময়সীমা মাথায় রেখে, যদি কোনো চুক্তি না হতো তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শক্তি ও পরিবহন অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানোর হুমকি দেয়, তখন এটি খুব কাছাকাছি আসে।সবকিছুই নির্ভর করবে ইরান হুমকি বন্ধ রাখবে কি না। বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক নৌপথের জন্য সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করবে কি না। ইরান অবশ্য বলেছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া। সেইসাথে তারা এ-ও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালীর উপর “ তাঁদের আধিপত্য” বজায় রাখা হবে।
এদিকে এই চুক্তি একটি সভ্যতা ধ্বংসের হাত রক্ষা পেয়েছে। ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছিল, ইরান যুদ্ধ বন্ধ না করলে ধ্বংস করে দেয়া হবে। হয়-তো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তা সম্ভব। কিন্তু এর পর যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্ব থেকে একঘরে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। চুক্তি হওয়াতে ইরান রক্ষা পেয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতি’র প্রতিপক্ষ হওয়া থেকে মুক্ত থেকেছে। রক্ষা পেয়েছে বিশ্ব মানবতা।
এই চুক্তি ট্রাম্পকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ দেয় – হয়তো তিনি তার হুমকি বাস্তবায়ন করে যেকোনো “সমগ্র সভ্যতা ধ্বংস” করার ঝুঁকি নিতে পারতেন অথবা চুক্তি থেকে সরে এসে নিজের নীতিনির্ভরতার ক্ষতি করতে হতো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়তো কেবল অস্থায়ী মুক্তি পেয়েছেন।
এই যুদ্ধ চুক্তির প্রথম লাভ হচ্ছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। মার্কিন স্টক বাজার উপরের দিকে উঠেছে।
এ-ই চুক্তির ফলে যুদ্ধ স্থগিত হলেও, আগামী দু সপ্তাহ পর আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দু সপ্তাহ পর আলোচনায় সমঝোতা হলে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে। না হলে আবারও যুদ্ধের ভায়বহতা।
পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসবে, যা স্থায়ী চুক্তি করার জন্য কিছু সময় নেয়া হবে। সম্ভবত পথটি কঠিন। তবে মার্কিনীরা এখন যা বলছে আগামীতে কি করবে তা এই মুহুর্তে বলা কঠিন। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান – যা পারমাণবিক বোমায় ব্যবহার হয় সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নয়। ইয়েমেন এখনো হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এছাড়া, যদি ইরান পুরোপুরি হরমুজ খুলেও দেয় তার কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় ইরানের আরো বেশী।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান “প্রতিরক্ষা কার্যক্রম” বন্ধ করবে এবং হরমুজের নিরাপদ নৌযাত্রা “ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে” নিশ্চিত করবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০-পয়েন্ট পরিকল্পনার “সাধারণ কাঠামো” গ্রহণ করেছে।
তবে ওই পরিকল্পনায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠানো, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃতি। ট্রাম্প হয়তো এসব শর্ত মানবেন না – যা পরবর্তী দুই সপ্তাহের আলোচনা কঠিন করতে পারে।
সম্পাদক
সাতকাহন
You might also like