Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

নির্বাচন ২০২৬

৫৫ শতাংশের মাজেজা কী!

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জাতীয় সংবাদ সংস্থা বিএসএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়তে পার। গত ১ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও প্রায় একই কথা বলেছিলেন। ঐদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ বা তার কিছু বেশি ভোট পড়তে পারে। এই দু’জনই অন্তর্বর্তী সরকারের এবং নির্বাচন কমিশনারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। দু’জনই কেন ৫৫ শতাংশ ভোট পড়বে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন? কীসের ভিত্তিতেই বা দিচ্ছেন? সরকার বা নির্বাচন কমিশন কি এ ব্যাপারে কোনো জরিপ বা অন্য কোনোভাবে কোনো হিসাব নিকাশ করেছেন? করলে সেটাও জনগণকে জানানো দরকার। না হলে মানুষ একথা বিশ্বাস করতেই পারে যে, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ঠিক করেছে যে কাষ্টিং ভোটের সংখ্যা ৫৫ শতাংশ বা তার আশেপাশে কিছু একটা দেখানো হবে। বাস্তবে যা-ই হোক। সেটাকেই কৌশলে জনগণের সামনে আনা হচ্ছে যাতে পল প্রকাশের পর স্বাভাবিক বলেই সবাই ধরে নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তো এই ক্ষেত্রে ঘর পোড়া গরু। তাঁরা সিঁদূরে মেঘ দেখলে ভয় পাবারই কথা। কারণ তাঁরা অতীতে ভোটারবিহীন নির্বাচনেও ৪০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার সরকারি ঘোষণা শুনেছে। আর গণভোটে তো কখনোই ৯০ শতাংশের কম ভোট পড়ার কথা তাঁরা শোনেননি। তাই এবারের এই ৫৫ শতাংশের মাজেজা নিয়েও তাঁরা চিন্তিত।

 

পাশার চাল উল্টে গেছে

নির্বাচন কমিশন পাশা (পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট-পিএএসএ) নামের একব্যাক্তি সর্বস্ব যে এনজিওটিকে অন্তত: ১০ হাজার নির্বাচনী পর্‌যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল, শেষ পর্‌যন্ত তা স্থগিত করেছে। বিষযটি নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাতকাহন বিডি ডট কমেও বিষযটি নিয়ে একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ফলে সারাদেশে বিষযটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনের ওই অনুমোদনের পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বলেও মানুষ বিশ্বাস করে নেয়। বিষয়টির প্রতি দেশের গণমাধ্যমের বিশেষ নজর পড়লে তাঁদের অনেকেই সিদ্ধান্ত নেন যে, পাশা যে সব আসনে নির্বাচন পর্‌যবেক্ষণ করবে সেখানে কাদেরকে পর্‌যবেক্ষক নিয়োগ করা হয় এবং তাঁরা নির্বাচনের দিন কোথায় কী ভূমিকা নেন সেদিকে নজর রাখতে হবে। এখন নির্বাচন কমিশন পাশা’র অনুমোদন স্থগিত করলেও বিষয়টি শেষ পর্‌যন্ত নজরে রাখবে দেশের গণমাধ্যম। অন্যান্য যে এনজিওগুলো নির্বাচন পর্‌যবেক্ষনের অনুমোদন নিয়েছে তাঁদের কর্মকান্ডের ওপরও গণমাধ্যম নজর রাখবে। সাংবাদিকদের জন্য কার্ড ইস্যু করতে যেখানে নির্বাচন কমিশন অনেক টালবাহানা করেছে এবং করে চলেছে সেখানে নামসর্বস্ব এনজিওদের হাজার হাজার পর্‌যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে তা অনুসন্ধান করা দরকার।

এ সম্পর্কিত

রাত পোহালেই ভোট

 

এটা কী আচরণবিধি ভঙ্গ নয়?

আততায়ীর গুলিতে নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার ইসনকিলাব মঞ্চের ডাকা প্রধান উপদেষ্টার কার্‌যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারীও। প্রশ্ন হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এ ধরণের কর্মসূচিতে কোনো প্রার্থী অংশ নিতে পারেন কিনা। নির্বাচন উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ৬ ধারা অনুযায়ী জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো ধরণের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে কোনো প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থক-অনুসরিরাও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে নন। তাহলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হচ্ছে না?

সাতকাহন ডেস্ক

You might also like