ঢাকায় মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় পাওয়া তথ্য বলছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মার্চে মশা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার ২৬ বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ে গবেষণা করছেন।
গবেষকেরা বলছেন, তিন কারণে এবার মশার প্রকোপ বেড়েছে। প্রথমত, এবার শীতের মাত্রা কম আর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আগেই শীত বিদায় নেওয়ায় মশার প্রকোপ আগেই শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি স্থবির হয়ে আছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় ৮৫০টি মশা কামড়াতে আসে। অথচ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা বেশি বলে ধরা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার দেখা যায়—কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তারই বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়। এডিসের কামড়ে ডেঙ্গু ও অ্যানোফিলিসের কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
এই গবেষণার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পাঁচটি এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এর মধ্যে কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টা একটানা মশার ফাঁদ রেখে এ গবেষণা করা হয়। গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি ওই পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়। আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২ নম্বরে ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১–এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১–এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।
তবে গবেষকেরা বলছেন, রাজধানীর সর্বত্র মশার প্রকোপ সমান নয়। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ ও পরীবাগে তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।
সাতকাহন ডেস্ক