পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে বিশেষ বাসসেবা চালু করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পাঁচটি বাস শনিবার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের মূল ফটক থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ঈদযাত্রার ভোগান্তির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যাগ-পত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভোর থেকেই জড়ো হন। কেউ সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, কেউ শেষ মুহূর্তের আড্ডায় মেতেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু করা হয় এবং রাতেই নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থী ও আগে আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বাসগুলো ঢাকা, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় রুটে পরিচালিত হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদের সময় অতিরিক্ত ভিড়, বাড়তি ভাড়া ও দীর্ঘ যানজটের কারণে বাড়ি ফেরা অনেক সময় দুর্ভোগে পরিণত হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসসেবা তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ যাত্রার সুযোগ তৈরি করেছে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রিফা লুবানা রানিয়া বলেন, আগে মূলত আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরাই বাস সুবিধা পেতেন, এবার দূরের শিক্ষার্থীরাও সুযোগ পাওয়ায় তারা আনন্দিত।
ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সিয়াম হোসাইন বলেন, পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়েছে।
তবে অনেক শিক্ষার্থী দক্ষিণাঞ্চল ও অন্যান্য দূরবর্তী বিভাগীয় শহরে আরও বাস চালুর দাবি জানিয়েছেন। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পি আহমেদ বলেন, বরিশালসহ দূরের বিভাগীয় শহরে বাস চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও উপকৃত হবেন।
বিশেষ বাসসেবা চালুর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন জানান, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের কাছে বিশেষ বাস চালুর আবেদন করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বাসের মধ্যে পাঁচটি বাস এই সেবায় যুক্ত করা হয়েছে। বাকি দুটি বাস দূরপাল্লার যাত্রার উপযোগী নয়।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সেবা অব্যাহত থাকবে।