ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের জন্য ২৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে।
রোববার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। একই সিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি, বাসের ছাদে যাত্রী বহন এবং পণ্য বা পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া গতিতে যান চালানো যাবে না। রাস্তার বাঁক, সরু সেতু ও ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায় অন্য যানবাহন অতিক্রম করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন, ঘুমঘুম ভাব বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন, এয়ারফোন ব্যবহার কিংবা উচ্চস্বরে গান বাজানো থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য না করতেও পরিবহন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে ডিএমপি।
যাত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত কাউন্টার বা টার্মিনাল ব্যবহার করে বাসে উঠতে হবে এবং অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখা এবং যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে পৌঁছানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা দৌড়ে রাস্তা পার না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।