রেজিস্ট্রার বদলিতে দুর্নীতির অভিযোগ আসিফ নজরুল ও তাঁর পিএসের বিরুদ্ধে, দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৮ মাসে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ জন সাব রেজিস্ট্রার বদলি করে শত কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও তাঁর একান্ত সহকারী (পিএস) মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী। লিংকন্স ইনন ব্যারিস্টার এবং বাংলদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর।
আবেদনে এম. সরোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, সংবিধানের আর্টিকেল-২১ অনুযায়ী নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির টুটি চেপে ধরার ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী হয়েছি যে, এবার সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিবাজদের বিচার করা হবে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জাতীয় ও জনস্বার্থ রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার তাগিদে অত্র আবেদন প্রদান করা হলো। গত ৩ মে দৈনিক খবরের কাগজের বরাতে বলা হয়, ‘অন্তবর্তী সরকারের আমলে আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা।
তত্কালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চারবার বদলি করা হয়েছে । আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে, পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি’।
লিখিত এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী আরও প্রকাশিত হয়েছে যে, আসিফ নজরুল ৮ আগস্ট ২০২৪ সালে আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধিক জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। তবে সাব-রেজিষ্ট্রারদের প্রথম বদলির আদেশ দেন সে বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর। আদেশে মোট ১৭ জন সাব রেজিষ্ট্রারকে বদলি করা হয়। এক্ষেত্রে সি গ্রেডের কয়েকজন সাব-রেজিস্ট্রারকে এ গ্রেডের অফিসে বদলি করে অধিদপ্তরের নীতিমালা ভঙ্গ করা হয়। এ আদেশে (২৯ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী জেলার জলঢাকা থানার সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে বদলি করা হয়। এর চার মাস পর ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে হরিপুর থেকে বদলি করা হয় দিনাজপুরের হাকিমপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে হাকিমপুরে যোগদানের আগের দিন মনীষাকে আবার বদলি করা হয় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে। এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির।
উপদেষ্টার পিএসের প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়, আইন উপদেষ্টা দায়িত্বকালীন তার পিএস (বর্তমানে জেলা জজ) শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে এই-সমস্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, শুধুমাত্র সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যে ঘুষ লেনদেন হয়েছে কমবেশি ১০০ কোটি টাকা। সাবেক আইন উপদেষ্টা ও তার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনেকটা উন্মুক্ত প্রকাশ্য। উল্লেখ্য, আইন উপদেষ্টার একান্ত সচিব শামসুদ্দিন মাসুম বদলি বাণিজ্য ছাড়াও, অনুরোধ ও নির্দেশ বানিজ্যের মাধ্যমে সীমাহীন দুর্নীতিতে লিপ্ত হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাতকাহন ডেস্ক