যুক্তরাষ্ট্রের সাথে “বিশেষ সম্পর্ক”জোরদারের বার্তা দিতে যুক্তরাজ্যের রাজা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্য জোরদারের-ও আহ্বান জানাবেন। আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভাসনকালে এই বার্তা দেয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে কোনো ব্রিটিশ সম্রাটের এটা হবে দ্বিতীয় ভাষণ। এর আগে তার মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন।এটি চার্লসের রাজত্বকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর। কংগ্রেসে ভাসন শেষে আজ রাতে রাজার সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের রাজা, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এমন সময় ভাষণটি দিতে যাচ্ছেন যে সময় ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
রাজপ্রাসাদের সূত্র অনুযায়ী সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, প্রায় ২০ মিনিটের এই ভাষণে ন্যাটো, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু উঠে আসবে। যদিও ভাষণটি ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শে লেখা হয়েছে, তবে এর ভাষা ও সুর অনেকটাই চার্লস নিজেই নির্ধারণ করেছেন।তার ভাষণের মূল বার্তা হবে, দুই দেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব এবং অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
সূত্র অনুযায়ী রাজা কংগ্রেস-এ বলতে পারেন, “সময়ের পর সময়, আমাদের দুই দেশ সবসময় একসঙ্গে আসার পথ খুঁজে পেয়েছে,” এবং এই অংশীদারিত্বকে “মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জোট” হিসেবে বর্ণনা করবেন।
ট্রাম্প যদিও ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রশংসা করেছেন। এবং রাজা চার্লসকে “একজন মহান ব্যক্তি” বলে উল্লেখ করেন। কিন্ত প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সাথে ট্রাম্পে দুই সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। স্টারমার আশা করছেন, এই সফর ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
এই সফরটি এমন এক প্রেক্ষাপটে হচ্ছে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা চলছে এবং ব্রিটেনের সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প সমালোচনা করেছেন। যদিও সাম্প্রতিক দিনে তিনি তার সমালোচনা কিছুটা কমিয়েছেন, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের দাবির বিষয়ে পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এছাড়া ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল পরিষেবা কর প্রত্যাহার না করলে “বড় শুল্ক” আরোপের কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সফরে রাজা চার্লসের সাথে রানি ক্যামিলা-ও থাকবেন।
সংবাদ সংস্থা ‘এপি’ থেকে সংগৃহীত