Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস করার দাবি সহকারী বিচারকদের

সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইন হিসেবে পাস করার দাবি জানিয়েছে সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজদের সংগঠন ইয়াং জাজেস ফর জুডিশিয়াল রিফর্ম। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার এবং জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তঁরা।

আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক মুহাম্মদ আলী তালহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সাড়ে আট শতাধিক সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজের সমন্বয়ে এই সংগঠন গঠিত হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার এই সুযোগে সরকার বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিতকল্পে জারিকৃত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংসদে পাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাই তাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবগঠিত সরকারসহ নির্বাচিত সব সংসদ সদস্যকে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে, যা আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে এবং সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণীত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের সেই যুগান্তকারী রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে কার্যকরভাবে পৃথক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে আংশিক পৃথক্‌করণ হলেও অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী বিভাগের হাতেই থেকে যায়। জারিকৃত অধ্যাদেশ সেই অসম্পূর্ণ যাত্রাকে পূর্ণতা দেওয়ার সূচনা করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারি দল বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার ৯ নম্বর দফায় স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে—মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে এবং বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন পৃথক সচিবালয় থাকবে। পাশাপাশি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কার অংশের ২০ নম্বর দফায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করতে সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার রয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীন বিচার বিভাগ অংশে পৃথক সচিবালয়কে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উল্লেখ করে বিবৃতিতে লা হয়, জুলাই জাতীয় সনদে দেশের সকল প্রধান রাজনৈতিক দল স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই জাতীয় ঐকমত্যকে সম্মান জানানোই নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে এই সংগঠন মনে করে।

এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার পর ১২ দফা দাবি উত্থাপন করে এর নেতৃবৃন্দ আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তাঁদের ১২ দফার প্রথম দফাই ছিল পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা।

সাতকাহন ডেস্ক         

You might also like