এই পৃথিবীতে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রতীক ‘মা’। সন্তানের হাসি, নিরাপত্তা আর ভবিষ্যতের জন্য একজন মা নিজের স্বপ্ন, আরাম এমনকি জীবন পর্যন্ত ত্যাগ করতে পারেন। তাই গল্প, কবিতা, গান, সিনেমা থেকে শুরু করে ধর্ম ও ইতিহাস—সবখানেই মায়ের ভালোবাসা বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
আজ রোববার বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি পালন করা হয় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নানা আয়োজনে।
তবে মা দিবস শুধু আবেগের কোনো দিন নয়; এর পেছনে রয়েছে সামাজিক আন্দোলন, মানবতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ইতিহাসও।
‘মা’ শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জন্ম, নিরাপত্তা, মমতা, আত্মত্যাগ ও অস্তিত্বের গল্প। একজন মানুষের জীবনের প্রথম আশ্রয়, প্রথম স্পর্শ এবং প্রথম শেখার জায়গা হলো মা। তাই যুগে যুগে বিভিন্ন সমাজ ও সংস্কৃতিতে মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর নানা রীতি গড়ে উঠেছে। আধুনিক বিশ্বে তারই বৈশ্বিক রূপ বিশ্ব মা দিবস।
মা দিবসের ইতিহাস শুরু হয় উনিশ শতকের আমেরিকায়। সে সময় সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হো ও অ্যান রিভস জার্ভিস নারীদের স্বাস্থ্য, শিশু পরিচর্যা ও সামাজিক পুনর্গঠনে কাজ করতেন। ১৮৭০ সালে জুলিয়া ওয়ার্ড হো শান্তি ও মানবতার পক্ষে ‘মাদারস ডে প্রোক্লেমেশন’ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে অ্যান রিভস জার্ভিস নারীদের সংগঠিত করার কাজ চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনে আনা জার্ভিস প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস পালন করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল সাদা কার্নেশন ফুল—যা ছিল তাঁর মায়ের প্রিয় ফুল। এরপর ধীরে ধীরে দিবসটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অবশেষে ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয় মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশও দিনটি পালন শুরু করে।
বর্তমান সময়ে মায়ের ভূমিকা শুধু পরিবার বা সন্তান লালন-পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মা একই সঙ্গে সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরিবারের মানসিক শক্তি, কর্মজীবী নারী, উদ্যোক্তা ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
সাতকাহন ডেস্ক