Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

বসন্তে কোকিলের কান্না

ছবি: সংগৃহীত

আজকের মতো সেদিনও আকাশে ছিল ছেড়া,ছেড়া মেঘ।ছিল বসন্ত বাতাস। ছিল শিশিরে ভেজা ঘাসের ডগায় সূর্যের মিছিল। আমার এই জন্মের শহরে সবকিছুই আগের মতো। আনন্দ-বেদনা, পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে আবহমান কালের ঢাকা শহর !
সেদিন-ও সব চলছিল ঠিকঠাক। কোথাও ছিলনা কোনো অজানা আশঙ্কা। অতিথি পাখিরা তখনো দেশে ফিরে যায়নি । পিলখানা’র দীঘল কালো জল। কালো জলে বসন্ত বাতাসে অতিথি পাখি। বসন্তের উষ্ণতায় বুক উঁচিয়ে ঠান্ডা চোখে প্রেমিক পুরুষকে কাছে পেতে। ধীরে ধীরে জল কেটে কেটে প্রেমিকা চলছে, প্রেমিক পাখির কাছে ।
ঠিক এমনই সময় চলে আসে দানবের দল। দানবের অনলে পিলখানার দীঘল কালো জলে শুধু আগুন আর আগুন। ভয়ার্ত পাখিদের চোখে অসময়ে শ্রাবণের জল।পাখিরা আকাশের পানে পাখনা মেলে ধরে আর ঈশ্বরের কাছে নিরাপত্তার প্রার্থনা !
আজকের এমন দিনে ২০০৯ সালের পিলখানা এমনটাই।চারদিকে শুধু গুলির আঘাত আর মৃত্যুর শেষ চিৎকার । এই শব্দের আওয়াজে স্তব্ধ হয়ে যায় শহরের সকল ব্যস্ততা। সময় থেমে যায়। থমকে যায় ঢাকা শহর। সেদিন শহরে ছিল শুধু কান্নার আর্তনাদ !
শহরের লোকেরা নির্বাক এবং নিরূপায় অবস্থায় অবলোকন করে। চেয়ে, চেয়ে দেখে তাদের সূর্য সন্তানদের মৃত্যু। আর শোনে বীরদের মৃত্যুর আর্তনাদ।
সকলের হাতে শুধু নিজ হাত নিষ্পেষিত হয়। গলা শুকিয়ে কাঠ। চিৎকার করে বলতে পারেনি, আমাদের বীরদের মেরো না। বাপ গেটের বাইরে জল হীন খোলা চোখে অপেক্ষায় অপেক্ষামান। ভাই, অসহায় পায়ে এপাশ থেকে ওপাশ মৃত্যু সংবাদের অপেক্ষায় হেঁটে বেড়ায়।
এই শহরে আমার জন্ম এখানেই বেড়ে ওঠা । এতো অসহায় আর কষ্টের মৃত্যু আমি আর কখনও দেখিনি। আর দেখতে চাইনা। গোটা শহরের লোক দর্শক হয়ে আমরা এই মৃত্যুকে দেখিছি !

সম্পাদক
সাতকাহন
You might also like