Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

পরিস্থিতি সামাল দেবেন কি ভাবে?

অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রায় ১৮মাস সময়কালে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কতখানি উন্নতি হয়েছে এই প্রশ্ন সামনে এসেছে। উল্লেখ করা দরকার অন্তবর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নেন তখন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ছিলো অতিশয় ভঙ্গুর। এরমধ্যে ব্যাংকিং খাত ছিলো শোচনীয়। এইব অব্স্থা থেকে উত্তরণের জন্য অর্থমন্ত্রনালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরলস চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে চেষ্টা খুব একটা সাফল্য বয়ে আনে নাই। এর প্রধানতম কারণ ছিলো সংশ্লিষ্ট সরকারী বিভাগ সমূহ এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনীহা এবং সমন্বয়ের অভাব এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিরোধীতা। অন্তবর্তী সরকার মনে করেছেন কিছু সংস্কার ছাড়া আর্থিক খাতের নিম্নমুখিতা রোধ করে তাকে উপরের দিকে টেনে উঠানো সম্ভব হবে না। কিন্তু এই সংস্কার করতে যেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহের এবং কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরিন বিরোধীতার সম্মুখিন হতে হয়।

আর্থিক খাতে সংস্কার করা অত্যন্ত জটিল কাজ এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আঠারো মাস তুলনামূলক ভাবে খুবই স্বল্প সময়। এই প্রেক্ষিতে সংস্কারের জন্য ভিত্তি মূলক কিছু কাজ সম্পন্ন করে তা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য করনীয় হিসাবে রেখে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প ছিলো না। অন্তবর্তী সরকার সে কাজটিই করেছে। এখন দেখার বিষয় নির্বাচিত সরকার কি ভাবে অগ্রসর হয়।

নির্বাচিত সরকারের ঘোষিত মেনিফেস্ট অনুযায়ী আর্থিক পরি¯ি’তির উন্নতি একটি সর্বো”চ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর্থিক খাত চাঙ্গা করা খুব সহজ হবে না। এর জন্য কমপক্ষে দেড় থেকে দুই বছরের সময় প্রয়োজন হবে। এছাড়া একজন সৎ, সম্মুখমুখী প্রাজ্ঞ এবং কর্মঠ ব্যক্তির উপর দায়িত্ব দেয়ার প্রয়োজন হবে। এই গুণাবলী সম্বলিত একজন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া নতুন সরকারের জন্য মাথাব্যাথার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার হিসাবে প্রাপ্ত যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে তা মোটেও সুখকর হবে না। বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ব্যস্টিক অর্থনীতিতে কিছুটা সু¯ি’রভাবে (ংঃধনরষরংধঃরড়হ) দেখা গেলেও বিনিয়োগ, মুল্যস্ফিতি, কর্মসংস্থানের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর লক্ষনীয় উন্নতি নেই। ব্যাংকিং বিভাগের সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সঠিপথে টেনে এনে পরিচালনা করতে যেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে হিমশিম খেতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য এবং একই কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ¯স্মিতি থাকবে কি না সে নিশ্চয়তা নেই। সার্বিক অর্থনীতিতে একটা বন্ধা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজস্ব সংগ্রহ পরিস্থিতির কোন উল্যম্ফন নেই। চলতি হিসাব পরিস্থিতি উন্নত হলেও অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে খুব একটা স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি নেই। এছাড়াও রয়েছে স্বল্পন্নত দেশ থেকে মধ্যম উন্নত দেশে উত্তরণ জনিত নানা প্রকার বিষয়, যা রপ্তানিতে গুরুতর প্রভাব ফেলবে, মোকাবিলা করা। যদিও বৈদেশিক মুদ্রায় রিজার্ভ পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক কিন্তু বিভিন্ন প্রকার সরকারি পাওনা মিটাতে গিয়ে এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি কতদিন পর্যন্ত বহাল থাকবে তা অনিশ্চিত। সর্বপরি রয়েছে কর্মসংস্থানের বিষয়। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে বা বিদেশে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে না পারলে অভ্যন্তরিন পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা খুবই চিন্তার বিষয়।

সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখিত কয়েকটি প্রধান বিষয় সফলভাবে মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া কতখানি সহজ বা সম্ভব তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ নেয়ায় গুরুদায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের স্কন্ধে পরেছে।

সিনিয়র সাংবাদিক
মনোয়ার হোসেন
You might also like