বিধানসভায় দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে অবশেষে খাতা খুলেছে সিপিএম। আর সেই সাফল্যের পরই শুরু হয়েছে দলের ভিতরে ভোটের ফলাফল ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা। শনিবার থেকে শুরু হওয়া দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ এক উপলব্ধি— পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধর্মকে পুরোপুরি এড়িয়ে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান বজায় রেখেও ধর্মাচরণকে মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে আলোচনায়।
সিপিএমের কাছে এই বিশ্লেষণ একেবারে নতুন নয়। তবে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি দলীয় নথির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মাচরণের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, এবং দলকে সেই পার্থক্য বুঝে রাজনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। সূত্রের দাবি, দলের একাংশ মনে করছে— পুজো কমিটি, মন্দির, মসজিদ বা গির্জা-সংক্রান্ত সামাজিক পরিসর থেকে দূরে থাকলে চলবে না; বরং সেখানে সম্পৃক্ততাই এখন সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে নেওয়া রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বৈঠকে। বিশেষ করে এ বারের নির্বাচনে এসডিপিআই ও আইএসএফের সঙ্গে সমঝোতা ঘিরে দলের অন্দরে মতভেদ সামনে এসেছে। সাগরদিঘিতে এসডিপিআই প্রার্থীকে সমর্থন, ক্যানিং পশ্চিমে আইএসএফের হয়ে আরাবুল ইসলামের লড়াই, কিংবা পূর্ব মেদিনীপুরে আইএসএফের চাপে সিপিএম নেতা নীরঞ্জন সিহির প্রার্থীপদ প্রত্যাহার— এসব ঘটনাকে ঘিরে দলের ভিতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
দলের একাংশের প্রশ্ন, এই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণে সিপিএম কি ধীরে ধীরে মুসলিম মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে? ২০২১ সালেও আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে আপত্তি ছিল দলের অনেক নেতার। যদিও এ বারের ভোটে আব্বাস সিদ্দিকী সরাসরি প্রচারে না থাকলেও, নওশাদ সিদ্দিকী রুটিরুজির ইস্যু সামনে এনে প্রচার চালান। তবু আরাবুলকে প্রার্থী করা বা নীরঞ্জনের সরে দাঁড়ানোর মতো ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
তবে পাল্টা যুক্তিও উঠে এসেছে বৈঠকে। ডোমকল থেকে সিপিএম প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান রানা জয়ী হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘু ভোটের সমর্থনে। দলের একাংশের মতে, এই সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে না গেলে বিধানসভায় আসন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ত।
সূত্র আনন্দবাজার
সাতকাহন ডেস্ক