Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

তীব্র গরমে টিউবওয়েলে দেখা দিয়েছে পানিসংকট

তীব্র গরম ও চলমান মাঝারি তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদ, ভ্যাপসা গরম এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক টিউবওয়েল ও সেচযন্ত্রে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টায় দিনাজপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলায় মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশা ও ভ্যানচালকরা কিছুক্ষণ কাজ করেই ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। অনেকে দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে বিকেলের দিকে জীবিকার সন্ধানে বের হচ্ছেন।

ফুলবাড়ী পৌরশহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশাচালক সিঙ্গেল জয়সোয়াল বলেন, “বয়সের কারণে বেশি সময় রোদে থাকতে পারি না। তারপরও সংসারের প্রয়োজনে বিকেলে কিছু সময় রিকশা চালাতে বের হতে হয়।”

এদিকে তাপদাহের কারণে বাইরে মানুষের চলাচল কমে গেলেও বেড়েছে শরবত, আইসক্রিম ও কোমল পানীয়র চাহিদা। শহর ও বিভিন্ন হাটবাজারে ভ্রাম্যমাণ শরবতের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। আখের রস, তোকমা, এলোভেরা, পাকা বেল, শিমুলের মূল, হরতকি, বয়রা ও লেবুর শরবত গ্লাসপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরফ, পানি, লেবু ও বিট লবণ দিয়ে তৈরি শরবত ১০ টাকা গ্লাসে বিক্রি হচ্ছে।

শরবত বিক্রেতা সাইদার রহমান বলেন, “গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরবতের চাহিদাও বাড়ছে। তবে দুপুরে মানুষ কম বের হওয়ায় বিক্রি তুলনামূলক কম থাকে, বিকেলের পর ক্রেতা বাড়ে।”

অন্যদিকে কোমল পানীয়র বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় এজেন্ট আব্দুল কাইয়ুম জানান, গরমের কারণে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোমল পানীয়র বিক্রি অনেক বেড়েছে।

তাপপ্রবাহের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে পানির ওপর। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক টিউবওয়েল ও সেচযন্ত্রে পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবছরই পানির স্তর কমে যাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “বাইরে আগুনের মতো গরম। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। মাঠে কৃষিশ্রমিকরাও দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না।”

এদিকে তাপদাহজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সর্দি-জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নূর-ই-আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

সাতকাহন ডেস্ক