Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

ক্যান্সারের ভ্যাকসিন আবিস্কার করেছে রাশিয়া

ক্যান্সারের ভ্যাকসিন অোবিস্কার করেছে রাশিয়া। এই আবিস্কারকে বিশ্ব চিকিত্‌সা ব্যবস্থায় ‘গ্রাউন্ডব্রেকিং এচিভমেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি গত মঙ্গলবার তৃতীয় পর্যায়ে (থার্ড স্টেজে) থাকা একজেন ক্যান্সার রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর আগে প্রাণীদেহে পরীক্ষায় এই ভ্যাকসিনের সফলতা পাওয়া গেছে। খবর রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যম আরটি অনলাইনের।

খবরে বলা হয়, ক্যান্সারের এই ভ্যাকসিনটি আবিস্কার করেছে রাশিয়ার ‘গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি’। এই প্রতিষ্ঠানই সর্বপ্রথম কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনও আবিষ্কার করেছিলো।

‘নিওঅনকোভ্যাক’ নামের ভ্যাকসিনটি এবারই প্রথম একজন ক্লিনিক্যাল রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হলো। রোগীটি ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষ, যার তৃতীয় পর্যায়ের ত্বকের ক্যান্সার রয়েছে। আরটি অনলাইনকে এই তথ্য জানিয়েছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিন্সবুর্গ। তিনি নিজেও এই ভ্যাকসিনটি আবিস্কার ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত।

গিন্সবুর্গ জানান, ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের পর রোগীর অবস্থা ভালো রয়েছে। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রোগীর টিউমার ও স্বাভাবিক টিস্যু থেকে নমুনা নিয়ে গবেষকেরা তার জিনগত বিশ্লেষণ করেন, এবং সেই অনুযায়ী একটি কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম করে তোলে।

রোগীকে ২-৩ সপ্তাহ পরপর মোট ৮-৯টি ডোজ দেওয়া হবে এবং প্রতিটি ডোজ দেওয়ার পর তার রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিন মাসের চিকিত্‌সা শেষে ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটির প্রাক-ক্লিনিক্যাল (প্রাণীর ওপর) পরীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে টিউমার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়েছে এবং প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে মেটাস্টেসিসেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার জাতীয় মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্দ্রেই ক্যাপরিন বলেন, “এটি একটি মৌলিকভাবে ভিন্ন পদ্ধতি—শুধু রোগের চিকিত্‌সা নয়, বরং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নির্দিষ্ট ক্ষতিকর কোষ চিহ্নিত করে ধ্বংস করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া।”

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো জানান, নিওঅনকোভ্যাক বর্তমানে রাশিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থার আওতায় বিনামূল্যে চিকিত্‌সা হিসেবে চালুর শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গামালেয়া গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এখন অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যান্সারসহ আরও বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের চিকিত্‌সা নিয়ে কাজ করছে।

সাতকাহন
ডেস্ক