এ সম্পর্কিত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত সামনে এসেছে। এতে কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার মতো কঠোর দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা চালু করা। ইরান চায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল হোক, যা কার্যকর হলে প্রণালিতে তাদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল’ চালুর কথাও বলা হয়েছে।
প্রস্তাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মধ্যে হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নেতিবাচক প্রস্তাব বাতিল এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
ইরান অতীতের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। পাশাপাশি, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সমঝোতাকে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি রেজোল্যুশন পাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ চুক্তি থেকে সরে যেতে না পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন কঠিন হলেও এগুলো ইরানের কৌশলগত অবস্থান ও আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাতকাহন ডেস্ক
Recover your password.
A password will be e-mailed to you.