দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (ASEAN) আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক বড় উদাহরণ। সদস্যভুক্ত ১০টি দেশের মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের হার ৩০ শতাংশেরও বেশি। বিপরীতে SAARC ভুক্ত দেশেগুলোতে এই হার মাত্র ৮ শতাংশ প্রায়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে SAARC দেশগুলো বড় প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু তা বাস্তবায়নে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না !
সার্কভুক্ত দেশগুলোর ASEAN থেকে শেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। ASEAN-এর সাফল্যের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে, একক বাজার ও উৎপাদনভিত্তি
প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা। সমতাভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং
বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্তি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা
আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর (৩০–৪০%)
অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। ঐক্যের মাধ্যমে শক্তি ও সুবিধা অর্জনের উপলব্ধি। অর্থনৈতিক একত্রীকরণ ও সম্প্রসারণে মূল গুরুত্ব দেয়া।সংবেদনশীল সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বিষয়গুলোকে আলোচনার বাইরে রাখা। পারস্পরিক শক্তি ও দুর্বলতাকে পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার। সব স্তরে নিয়মিত বৈঠককারী নিবেদিত কর্মকান্ডে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা। এতে সদস্যভুক্ত কোনো দেশকে বাদ না রাখা। বিশেষ করে, দেশের আকার বা অবস্থান নির্বিশেষে সমান মর্যাদা প্রদান
SAARC দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আটটি সদস্য দেশের অর্থনীতিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একীভূত করার চেষ্টা করছে। ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত South Asian Free Trade Area (SAFTA) এই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১.৮ বিলিয়ন মানুষের বিশাল জনসংখ্যা এবং ৫.২ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি রয়েছে। তারপরও দক্ষিণ এশিয়া এখনো বিশ্বের সবচেয়ে কম সংযুক্ত অঞ্চলের একটি।
এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জটিল সুরক্ষা ব্যবস্থা, অ-শুল্ক বাধা (NTBs), বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অস্থিরতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উদারীকরণের ধীরগতি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।
বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য—যেখানে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করে—খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ। এত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫৬ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ধরে রাখতে পেরেছে, যা ৮.৫৮% প্রবৃদ্ধি।
তবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে রপ্তানি আরও বাড়াতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকেও বৃহত্তর অর্থনৈতিক একীকরণের পারস্পরিক সুবিধাগুলো বিবেচনা করতে হবে।
এটি অর্জন করতে হলে, বাজার একীকরণ
সীমান্তপারের সংযোগ বৃদ্ধি
জ্বালানি সহযোগিতা
অগ্রাধিকার খাতে বাণিজ্য উদারীকরণ। শুধু আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (SAFTA) যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন,অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অ-শুল্ক বাধা দূর করা
সহায়ক নীতি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে ফলাফলভিত্তিক একটি পরিষ্কার কাঠামো তৈরি করতে হবে। তা করা গেলে SAARC দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।
লেখক:
মো. মুনির চৌধুরী
ন্যাশনাল ট্রেড এক্সপার্ট, বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেক্টিভিটি
সাতকাহন