ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তেলের দাম। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করার পর বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের জবাব পাঠিয়েছে তেহরান। সেখানে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছে ইরান।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া আমি পড়েছি। এটা আমার মোটেও পছন্দ হয়নি।”
এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৫০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৯.৮০ ডলারে ওঠে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। চলমান সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না।
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয়েও পড়েছে। সৌদি আরামকো জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।