Satkahonbd | সাতকাহন
সত্যের সন্ধানে

আজ চৈত্র সংক্রান্তি: বিদায়ের আবেগে নতুনের আহ্বান

আজ ৩০ চৈত্র, বাংলা বছরের শেষ দিন—চৈত্র সংক্রান্তি। পুরনো বছরের ক্লান্তি, গ্লানি ও জীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালি। বিদায় আর আগমনের এই সন্ধিক্ষণ তাই আবেগ, ঐতিহ্য ও নবজাগরণের এক অনন্য প্রতীক।

ঋতুচক্রের স্বাভাবিক ধারায় চৈত্রের প্রখরতা যেন বিদায়ের বার্তাই বহন করে। শুকনো পাতার মর্মর ধ্বনির সঙ্গে মিশে থাকে নতুনের আগমনী সুর। চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়, বরং নতুন উদ্যমে জীবন শুরুর প্রতীকী সময়।

গ্রামবাংলায় এ দিনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি, ঘরে ঘরে নিরামিষ রান্না, ১৪ শাক কিংবা ছাতু খাওয়ার ঐতিহ্য—সবই নতুন সূচনার ইঙ্গিত বহন করে। এদিনের খাদ্যাভ্যাসে স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ। শিবপূজা, ব্রত পালন ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তারা দিনটি উদযাপন করেন। অন্যদিকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তিন দিনব্যাপী উৎসবের মাধ্যমে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে বরণ করে, যা দেশের বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

সময়ের পরিবর্তনে নগরজীবনে কিছুটা রূপ বদলালেও গ্রামীণ ঐতিহ্য এখনও বহমান। মেলা, যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত ও বায়োস্কোপের মতো আয়োজন এ দিনকে করে তোলে উৎসবমুখর। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে লোকশিল্প প্রদর্শনী, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান ও পুঁথিপাঠসহ বিভিন্ন পরিবেশনার আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য।

সব মিলিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির জীবনে এক অনন্য দিন—যেখানে বিদায়ের বেদনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুনের আশার আলো। সময় এগিয়ে চলে, বছর বদলায়, কিন্তু এই ঐতিহ্য থেকে যায় চিরন্তন।

সাতকাহন ডেস্ক